ট্রাম্পের ভাষণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, "আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং এটি খুব দ্রুতই শেষ হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি।" যদিও তিনি দাবি করেছেন যে, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই হামলা অব্যাহত রাখলে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা জানান, ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক তৎপরতার কোনো উল্লেখ না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে তেলের দাম নতুন উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে।"
পারস্য উপসাগরে হামলা ও সরবরাহ সংকট
তেলের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলাকে। বুধবার কাতারি জলসীমায় 'কাতারএনার্জি'র লিজ নেওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের হামলার ফলে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়ছে, যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপরই নয়, বরং সারা বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
তেলের দামের বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নলিখিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
- ব্রেন্ট ক্রুড: প্রতি ব্যারেলে ৬.৩৩ ডলার বা ৬.৩ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭.৪৯ ডলারে।
- ডব্লিউটিআই: প্রতি ব্যারেলে ৫.২৮ ডলার বা ৫.৩ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ১০৫.৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।



