বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে আশাবাদী, এলডিসি উত্তরণে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান
বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে আশাবাদী

বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে আশাবাদী, এলডিসি উত্তরণে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি১৪) পাশাপাশি ক্যামেরুনের ইয়াউন্ডেতে রোববার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণকারী

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সোমবারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ইউরোপীয় পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইইউ কমিশনার মারোশ শেফচোভিচ, যার সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য মহাপরিচালক সাবিনে ওয়েইয়ান্ড ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের উদ্যোগ ও আহ্বান

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করতে ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে অগ্রগামী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা টেকসই বাণিজ্য-নির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে। তিনি বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি প্রশমনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। তাই তিনি প্রাথমিক পর্যায়েই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের বাণিজ্য কৌশল ও অগ্রগতি

বাংলাদেশের বিস্তৃত বাণিজ্য কৌশল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশটি ইতিমধ্যে জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে শ্রম খাতে সংস্কারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সংশোধিত শ্রম আইন শিগগিরই কার্যকর হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া

প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় পক্ষ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং চলমান শ্রম সংস্কারের প্রশংসা করেছে। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ইইউ কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে।

উভয় পক্ষের সম্মত বিষয়

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সমতাভিত্তিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব উভয় পক্ষই জোর দিয়ে তুলে ধরেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সব অংশীদারের জন্য অ-বৈষম্যমূলক ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা বজায় রাখা ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। এই বৈঠক বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।