মরক্কোতে বিএফটিআই ও আইসিডিটির মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
বিএফটিআই ও আইসিডিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

মরক্কোতে বিএফটিআই ও আইসিডিটির মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) এবং ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড (আইসিডিটি)-এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শুক্রবার স্বাক্ষরিত হয়েছে। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় আইসিডিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিবরণ

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ওআইসিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ এবং আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এ সময় মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং আইসিডিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পূর্ববর্তী আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার তার অংশীদার দেশসমূহকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি, আইসিডিটির গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও উপখাত অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আইসিডিটির সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করে যে, এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধারণা, বিশেষজ্ঞ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, এর ফলে দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা আইসিডিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পাবেন, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আইসিডিটির প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আইসিডিটির মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় নিয়মিত অবদান রেখে আসছে এবং সংস্থাটির বিভিন্ন ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি এই সমঝোতা স্মারককে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিডিটি বাংলাদেশকে বিভিন্ন বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে একটি পাইলট দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকাকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও পর্যালোচনায় রয়েছে। এছাড়া, ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী, কর্মশালা, বাণিজ্য আলোচনা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ

উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও সম্প্রসারিত করা যাবে। এই চুক্তি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিডিটি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে কাজ করে আসছে, এবং এই সমঝোতা স্মারক সেই প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।