ভারতে জ্বালানি শুল্ক কমানো: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ
ভারতে পেট্রল-ডিজেল শুল্ক কমানো, রপ্তানিতে নতুন কর

বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতায় ভারতের জ্বালানি শুল্ক কমানো

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ভারত সরকার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। একইসাথে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানির ওপর নতুন করে কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

শুল্ক কমানোর বিস্তারিত বিবরণ

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জারি করা এক আদেশ অনুযায়ী, পেট্রলের আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ রুপি করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ওপর শুল্ক ১০ রুপি থেকে সম্পূর্ণভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কত পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের ধারণা, শুল্ক কমানোর ফলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি হতে পারে।

তেল কোম্পানিগুলোর উপর চাপ ও সরকারি পদক্ষেপ

ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে দেশের তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ রুপি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এই চাপ কমাতেই সরকার শুল্কে ছাড় দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ক্ষতি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের পূর্ণ সমন্বয় না করায় কখনো সরকার, আবার কখনো কোম্পানিগুলো বাড়তি চাপ বহন করে—ফলে সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা সুরক্ষা পান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রপ্তানিতে নতুন কর আরোপ

এদিকে সরকার ডিজেল রপ্তানিতে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে ২৯.৫ রুপি কর আরোপ করেছে। গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত বিপুল পরিমাণ পেট্রল ও ডিজেল রপ্তানি করেছে, যেখানে বড় অংশের রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

সরকারের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি হবে না। একইসাথে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কম রাখার চেষ্টা করা হবে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হওয়ায়, এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন দেশের কয়েকটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়, তাই বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।