মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিমান ভাড়া বাড়ছে, জেট ফুয়েলের দামে ধাক্কা
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিমান ভাড়া বাড়ছে, জেট ফুয়েলের দামে ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের বিমান খাতে জেট ফুয়েলের দামে ধাক্কা, ভাড়া বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বিমান খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক রুটেও ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

জেট ফুয়েলের দামে ঊর্ধ্বগতি

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দাম দুই দফায় বাড়িয়েছে, যা লিটারপ্রতি ১০৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটসের গড় দর, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহণ খরচ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ঝুঁকি এবং এশিয়ার বাজারে অস্থিরতা জেট ফুয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার মূল কারণ।

অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বৃদ্ধি

জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে বুধবার দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে একক যাত্রায় ভাড়া বাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এবং সৈয়দপুর রুটে ভাড়া ১,২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে যশোর ও রাজশাহী রুটে ভাড়া বেড়েছে ১,০০০ টাকা। রিটার্ন টিকিটের জন্য যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক তুলনায় উচ্চ মূল্য

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেশি। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই; গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে এবং প্রায় আগের দামেই জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.৬২ ডলার, মাস্কাটে ০.৬০৩ ডলার, দুবাইয়ে ০.৫৮৭ ডলার, জেদ্দায় ০.৫৮১ ডলার এবং দোহায় ০.৫৮৪ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, যেমন ব্যাংককে ১.০৯৮ ডলার এবং সিঙ্গাপুরে ০.৫৮৬ ডলার মূল্যে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।

এয়ারলাইন্সগুলোর চ্যালেঞ্জ

একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৫০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। জেট ফুয়েলের হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি অপারেশনাল খরচ বাড়িয়ে দেবে, যা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন এক চাপের বাস্তবতা তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, খরচ ব্যবস্থাপনা এখন এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এর সরাসরি প্রভাব যাত্রী ভাড়ার ওপর পড়বে।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা

অপারেটররা সতর্ক করেছেন যে, ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এওএবি। সংগঠনটির মতে, বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ না হলে দেশের এভিয়েশন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, এবং কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো বা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে এয়ারলাইন্সগুলোকে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে জেট ফুয়েলের দাম স্থিতিশীল করা এবং এভিয়েশন খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।