ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা, বাজার বিশ্লেষকদের সতর্কতা
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সময়সীমা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের অনুরোধ এবং চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে কোনো হামলা চালানো হবে না। এই ঘোষণার ফলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো শঙ্কা কাটেনি। গত এক মাসে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তেলের দামের বর্তমান অবস্থা
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ০২:৩০ মিনিটে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যারা মনে করেন হামলার সময়সীমা বাড়ানোয় সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের বাজার এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতামত
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদিও ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের দামে সাময়িক কমতি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মতো জটিল বিষয়গুলো তেলের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, কারণ যেকোনো নতুন সংঘাতের খবর তেলের দামকে দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা



