শেল সিইও-র সতর্কতা: ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এপ্রিলেই ইউরোপে জ্বালানি সংকট
শেল সিইও: এপ্রিলেই ইউরোপে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এপ্রিলেই ইউরোপে জ্বালানি সংকট: শেল সিইও

বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি শেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়ায়েল সাওয়ান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাস অর্থাৎ এপ্রিলের মধ্যেই পুরো ইউরোপজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে সাওয়ানের বক্তব্য

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি খাতের নির্বাহী ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ওয়ায়েল সাওয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে এপ্রিলেই ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়তে পারে। আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি।’

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারগুলোকে এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, চাহিদার লাগাম টানা, মজুদ বৃদ্ধি এবং সরাসরি ক্রয়ের মতো কৌশলগত পদক্ষেপগুলো সচল রাখা প্রয়োজন

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অভাব

শেল প্রধান আরও জানান, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ইউরোপ অনেকটা ‘রিঅ্যাকশন মোড’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো জ্বালানি কৌশল হলো সেগুলোই, যা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় এবং শুরু থেকেই একটি স্থিতিস্থাপক বা সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কিন্তু আমরা বর্তমানে কেবল পরিস্থিতির পেছনে দৌড়াচ্ছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববাজারে উদ্বেগ

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাওয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া শেলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসায় ইউরোপীয় দেশগুলোর জ্বালানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সতর্কতা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা নীতিতে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সাওয়ানের বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য সময়সীমা এবং তা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, যা ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।