ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নাটকীয় পতন, পুঁজিবাজারে সুবাতাস
ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তায় তেলের দামে নাটকীয় পতন

ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নাটকীয় পতন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণক্ষেত্রের কামানের গর্জনকে পেছনে ফেলে এখন আলোচনার টেবিলে নজর দিয়েছে বিশ্ববাজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ইতিবাচক বার্তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটেছে। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আপাতত হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় গত কয়েকদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে পুঁজিবাজারেও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তেলের দামে আকাশচুম্বী বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা

সোমবার (২৩ মার্চ) এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ মার্কিন ডলারে উঠে গিয়েছিল। এই আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছিল। তবে ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক আলোচনার’ দাবির পর তেলের দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করে, যা বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ও সূচকের ঊর্ধ্বগতি

তেলের দামের এই পতনের ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ার বাজারেও গত কয়েকদিনের টানা দরপতনের ধারায় ছেদ পড়েছে। সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ জমিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প পূর্বে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার পাল্টা হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ একটি ‘সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক’ সমাধানের পথে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান এই আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে, তবুও বাজার এই ইতিবাচক বার্তাকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও বর্তমান পরিস্থিতি

শনি ও রবিবার জুড়ে দুই পরাশক্তির পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছিল, সোমবারের এই পরিস্থিতির পর তা কিছুটা কেটেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন, কারণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই নমনীয় সুর সাময়িকভাবে হলেও বাজারকে স্থিতিশীল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সংশয়

তবে তেহরান যেহেতু সংলাপের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে, তাই তেলের দামের এই পতন কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপরই এখন বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ যেকোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা আবারও বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।