ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করায় তেলের দামে বড় পতন, বিশ্ববাজারে স্বস্তির হাওয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি পাঁচদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
হরমুজ প্রণালি উত্তেজনা ও ট্রাম্পের আলটিমেটাম
গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান এই শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে। এই হুমকির জবাবে ইরান ভীত না হয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, যদি তাদের কোনো জ্বালানি স্থাপনা আক্রান্ত হয়, তাহলে আরব দেশগুলোর বড় তেল ও গ্যাস ফিল্ডগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে উত্তেজনা চরমে উঠেছিল, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে টালমাটাল করে তুলেছিল। ইরানের জাহাজে হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, কারণ জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তেলের দামে ১৩ শতাংশ পতনের বিশদ
ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই তেলের দামে ধস নেমেছে। জিএমটি সময় ১১:০৮ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১৩ ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে সেশন লো ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে।
এই পতন শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং এটি বিশ্ববাজারে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত অস্থায়ী হলেও তা উত্তেজনা হ্রাসে ভূমিকা রাখছে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রভাব
এই ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের উপর রাজনৈতিক উত্তেজনার গভীর প্রভাব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর, এবং এখানে কোনো অস্থিরতা সরাসরি তেলের দামকে প্রভাবিত করে। ট্রাম্পের হামলা স্থগিত করায় বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা জরুরি।
এছাড়া, এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জটিলতাও প্রকাশ করেছে। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোও জ্বালানি সম্পদকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই, ভবিষ্যতে এই ধরনের উত্তেজনা এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা। এই প্রতিবেদনে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



