মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: কৃষি ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয়

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে 'বিপর্যয়ের' শঙ্কা তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলা শুরু হওয়ার পর এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে প্রসারিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের জ্বালানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যোগান দেয়, কিন্তু ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধের ফলে এই পথে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষি খাতের উপর প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থা, প্লাস্টিক ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনে। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তেল সংকটের ফলে সেচ ব্যবস্থা বন্ধের উপক্রম হয়েছে এবং সার সংকট তীব্র হচ্ছে। দেশে দেশে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকদের উপর চাপ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি

যুক্তরাজ্যের কৃষি ইউনিয়ন (এনএফইউ) এর প্রধান সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কৃষক ও খাদ্য উৎপাদনকারীদের উৎপাদন খরচ 'বিপুল পরিমাণে' বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনএফইউর প্রেসিডেন্ট টম ব্র্যাডশ বলেছেন, 'সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্ত ঝুঁকি কৃষক ও খামারিরাই বহন করছেন। আমরা সার, রেড ডিজেল এবং গ্রিনহাউস গরম রাখার গ্যাসের দামে বিশাল বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি।' তিনি আরও যোগ করেন, এটি দেশের খাদ্য উৎপাদনের খরচের উপর প্রকৃত প্রভাব ফেলবে এবং ভোক্তাদের জন্য পণ্যের বাড়তি দাম দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ও স্থিতিশীলতা

ব্র্যাডশ দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষকদের ন্যায্য মুনাফা পাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা 'মুদ্রাস্ফীতির পরবর্তী চক্রের শুরু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্ব জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস নিয়ে গভীর সংকটের মুখোমুখি বিশ্ব, যা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।