মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি সংকট: বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য 'বড় হুমকি'
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সোমবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি 'বড় হুমকি' হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
১৯৭০-এর দশকের সংকটের সঙ্গে তুলনা
বিরোল বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকট এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'বর্তমান সংকটটি আসলে দুটি তেল সংকট এবং একটি গ্যাস বিপর্যয় একসাথে মিলিত হয়েছে।' তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি আজ একটি গুরুতর ও মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি, এবং তিনি আশা করেন যে এই সমস্যা যত দ্রুত সম্ভব সমাধান হবে।
কোনো দেশই নিরাপদ নয়
আইইএ প্রধান জোর দিয়ে বলেন, 'যদি এই সংকট বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে এর প্রভাব থেকে কোনো দেশই মুক্ত থাকবে না। তাই বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।' তার এই মন্তব্য বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির বিনিময় চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করেছেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। এই সংকীর্ণ জলপথে পেট্রোলিয়াম পরিবহন প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তেলের দামে উল্লম্ফন
সোমবার সকালেই তেলের দাম আবারও বেড়েছে, যেখানে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড তেলের দাম সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। এই দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যা জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদের ক্ষতি
বিরোল অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, এই সংঘাতে পুরো অঞ্চল জুড়ে কমপক্ষে চল্লিশটি জ্বালানি সম্পদ 'গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতরভাবে' ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি কেবল বর্তমান সরবরাহকেই প্রভাবিত করছে না, বরং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটের সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি একটি দীর্ঘমেয়াদী মন্দার দিকে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উপর।



