আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট: বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিশাল হুমকি, সতর্ক করলেন আইইএ প্রধান
জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির হুমকি, সতর্ক করলেন আইইএ প্রধান

বিশ্ব অর্থনীতির উপর জ্বালানি সংকটের বিশাল হুমকি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফতিহ বিরল বর্তমান জ্বালানি সংকটকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, 'বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক বিশাল হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।' এই সতর্কবার্তা তিনি আজ সোমবার (২৩ মার্চ) ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে দিয়েছেন।

সংকটের সম্মিলিত রূপ ও বৈশ্বিক প্রভাব

ফতিহ বিরল বর্তমান পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। এই সংকট নিরসনে এখন বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।' তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন, তবে তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জরুরি পদক্ষেপের উপর।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও আইইএ-এর পদক্ষেপ

আইইএ প্রধান আরও জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে এ অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা 'ভয়াবহভাবে' ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে আইইএ সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফতিহ বিরল বলেন, 'বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আমরা আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত আছি। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত সরবরাহ শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি।' এই প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সমাধানের পথ

এই সংকট মোকাবিলায় আইইএ-এর পরিকল্পনা ও পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:

  • জরুরি তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা।
  • এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা।

ফতিহ বিরল জোর দিয়ে বলেন, 'এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গভীর চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।' বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে তিনি মত দেন।