মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস, তেলের দাম বাড়ছে
এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকি, পাশাপাশি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক পতন, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এশীয় বাজারগুলোর অবস্থা: সিউল ও টোকিও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত

এশীয় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিউল ও টোকিও। যুদ্ধের আগে এই দুই বাজার বেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে বিক্রির চাপে সিউলের সূচক ৬ শতাংশ এবং টোকিও ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এছাড়া হংকংয়ের বাজারে ৩ শতাংশের বেশি পতন দেখা গেছে এবং সাংহাই, তাইপেই ও ম্যানিলা ২ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। সিডনি, সিঙ্গাপুর এবং ওয়েলিংটনও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মুদ্রা ও তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত

মুদ্রাবাজারেও এই যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা 'ওন'-এর মান ডলারের বিপরীতে ১,৫১০-এ নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এদিকে, তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১০০ ডলারের সামান্য নিচে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতকে চাপের মুখে ফেলছে এবং ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা চলমান থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। সূত্র: আলজাজিরা।