মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ
শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম ২৫% বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কা তার দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। আজ রোববার সরকারি ঘোষণায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

জ্বালানির দামে সরাসরি প্রভাব

এই সিদ্ধান্তের ফলে শ্রীলঙ্কায় প্রতি লিটার সাধারণ পেট্রোলের দাম ৩১৭ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯৮ রুপি (প্রায় ১.৩০ ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম ৭৯ রুপি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮২ রুপিতে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে সরকার খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৮ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল, পাশাপাশি জ্বালানি তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়ে ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব

ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়, যা শ্রীলঙ্কার মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। শ্রীলঙ্কা তার সমস্ত তেল আমদানি করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাও কেনে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সরাসরি দেশটির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের সতর্কতা ও পদক্ষেপ

সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, 'সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা জ্বালানি ব্যবহারে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে গত সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে, যা জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বুধবার থেকে চার কর্মদিবস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন, পাশাপাশি যেখানে সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাসায় থেকে কাজ করার ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ২০২২ সালের অর্থনৈতিক ধস থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অর্থনৈতিক পটভূমি ও চ্যালেঞ্জ

শ্রীলঙ্কা ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ৪৬ বিলিয়ন ডলার সমান বৈদেশিক ঋণখেলাপি হয়েছিল, যা দেশটিকে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেও, বর্তমান জ্বালানি সংকট নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। দেশটি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনে, আর ইরানের সহায়তায় নির্মিত শোধনাগারের জন্য অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপ জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশটির জন্য নতুন করে সংকট ডেকে আনতে পারে।