জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আইইএর ১০ পদক্ষেপ: গাড়ির লাইন ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
জ্বালানি সংকটে আইইএর ১০ পদক্ষেপ: গাড়ির লাইন ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ: আইইএর জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ে ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ডে এসি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না চলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ও ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মদিবস চালু করা হয়েছে। কিছু দেশ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় কমিয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিমান ভ্রমণ সীমিত করার ব্যবস্থা নিয়েছে।

আইইএর প্রস্তাবিত ১০টি পদক্ষেপ

আইইএ তার সদস্যদেশ ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য নিম্নলিখিত পরামর্শগুলো দিয়েছে:

  • গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার হ্রাস করা।
  • বিকল্প দিনে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করা।
  • কার শেয়ারিং ও দক্ষ ড্রাইভিং অভ্যাস উৎসাহিত করা।
  • যেখানে সম্ভব বিমান ভ্রমণ এড়ানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্নার প্রচলন বাড়ানো।
  • জরুরি কাজ ও রান্নার জন্য এলপিজি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া।
  • জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত যানবাহন গ্যাসে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া।
  • এলপিজি কম ব্যবহারের জন্য অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
  • সুষম গতিতে গাড়ি চালানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা।
  • বাড়িতে থেকে কাজ করার সংস্কৃতি বাড়ানো এবং দূরবর্তী কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করা।
  • সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইইএর ভূমিকা ও বর্তমান সংকটের গভীরতা

আইইএর মোট ৩২টি সদস্যদেশ রয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান এবং ২৪টি ইউরোপীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটির প্রধান ভূমিকা হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সমস্যা সম্পর্কে বিশ্লেষণ ও পরামর্শ প্রদান করা। ফাতিহ বিরোল উল্লেখ করেছেন, এই সংকট ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও বড় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরের ধাক্কাকেও ছাড়িয়ে গেছে। যদিও হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়েছে, তবুও যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি আগের চেয়ে কম হবে। তেলক্ষেত্র, রিফাইনারি ও পাইপলাইনের মতো জ্বালানি অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে অনেক মাস সময় লাগবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আইইএ ইতিমধ্যে তার সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে জরুরি তেলের ২০ শতাংশ বা ৪ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফাতিহ বিরোল বলেছেন, যদি অর্থনৈতিক প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে আরও জ্বালানি বাজারে ছাড়া যেতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে রাজনৈতিকভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হতে পারে, কিন্তু সরকারগুলোর এখন জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।