ইরানি তেল আমদানির সুযোগে এশিয়ার দেশগুলোর প্রস্তুতি
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির কাছে নোঙর করা কার্গো জাহাজ দেখা যাচ্ছে। ১১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তোলা ছবিতে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় ভারতসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আবারও ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মেটাতে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নেওয়ার পর আজ শনিবার ব্যবসায়ীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের প্রস্তুতি ও অপেক্ষা
ভারতের তিনটি রিফাইনারি বা তেল শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। এশিয়ার অন্য বড় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম থাকায় দেশটি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এশিয়ার অন্য রিফাইনারিগুলোও ইরানি তেল কেনার আইনি ও কারিগরি দিক যাচাই করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল শুক্রবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তাবলি
মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এ সুবিধার আওতায় পড়বে। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩–১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।
এশিয়ার নির্ভরতা ও চ্যালেঞ্জ
এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন দেশটির প্রধান গ্রাহক হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্যমতে, গত বছর চীনের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ দেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ রাখলেও চীন বড় ছাড়ে এ তেল কিনে আসছিল।
কেনাকাটায় জটিলতা
তেল কেনার সুযোগ তৈরি হলেও অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং এ তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় কিছু জটিলতা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া অতীতে যারা সরাসরি ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) কাছ থেকে তেল কিনত, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে ইরানি তেলের একটি বড় অংশই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে আসছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে সবাই দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করবে। ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।



