যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন মোড়
যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞা শিথিল
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর তেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। বরং ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ আয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠনের সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেসের পরিচালক ডেভিড ট্যানেনবাম এই সিদ্ধান্তকে "উদ্ভট ব্যাপার" বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হলে সেই অর্থ যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার হতে পারে।
চীন ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা
যুদ্ধের আগে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। নিষেধাজ্ঞার কারণে বেইজিং খুব কম দামে এই তেল কিনে নিত। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো আরও বেশি তেল পাবে। একই সঙ্গে চীনকে প্রকৃত বাজার দর পরিশোধে বাধ্য করা হবে।
রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপ
গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের তেল মজুদও ছেড়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "দাম অপরিবর্তিত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।" তবে এই পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই ছাড়ের ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরান সরকারের কাছে যাওয়া রোধ করা কঠিন হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।



