আন্তর্জাতিক তেলের দরে বড় পতন, ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের নিচে নামল
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯.১৩ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দাম কমতে শুরু করে।
সংঘাতের প্রভাব ও দামের ওঠানামা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের ফলে ইরানে হামলা শুরু হয়। এতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় এবং বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ হয়ে যায়। ইসরাইল দক্ষিণ ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের আসালুয়ে তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়েকটি জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত হওয়া এবং তেহরানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলা না করার প্রতিশ্রুতির মতো বিভিন্ন কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে থাকে। শুক্রবার (২০ মার্চ) জিএমটি ১৬:১০ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে প্রায় ১০৯.৭৫ ডলারে নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি পতন নির্দেশ করে।
ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নিজেদের তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাবে। একইসঙ্গে ইরান ওই সব তেল স্থাপনা এবং এর আশেপাশের এলাকা খালি করার সতর্কতা জারি করেছে। দিনের সর্বোচ্চ দাম থেকে কিছুটা কমলেও ব্রেন্ট ক্রুড এখনও ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহকে আরও অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করায় ব্যবসায়ীরা এখনও উচ্চ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করেই তেলের দাম নির্ধারণ করছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম নিয়ে রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর আন্তর্জাতিক তেলের এই মানদণ্ডটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক উন্নতির ফলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে আরও সংঘাত হলে দাম আবারও বাড়তে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।



