ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন: ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন ৯৩.৪৯ রুপিতে
ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন, ডলারে সর্বনিম্ন ৯৩.৪৯

ভারতীয় রুপির ঐতিহাসিক পতন: ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান তথা দাম আরও কমে গেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আজ শুক্রবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম প্রায় ৬০ পয়সা কমে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে, ফলে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৯ রুপি। এটি ইতিহাসে ভারতীয় রুপির সর্বনিম্ন মান, অথবা উল্টোভাবে বললে মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

মুদ্রাবাজারের দিনের লেনদেন ও পূর্ববর্তী রেকর্ড

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে আজ লেনদেন শুরু হয় প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৯২ রুপি কেনাবেচার মধ্য দিয়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রথমবারের মতো দাম ৯৩ রুপি অতিক্রম করে এবং পরে রুপির দর আরও পড়ে যায়, শেষ পর্যন্ত ৯৩ দশমিক ৪৯-এ নেমে আসে। এর আগে, গত বুধবার ডলারের বিপরীতে রুপি ৪৯ পয়সা কমে রুপির দাম ৯২ দশমিক ৮৯-এ নেমেছিল, যা তখন ডলারের বিপরীতে রুপির সর্বনিম্ন দামের রেকর্ড ছিল। তারও কয়েক দিন আগে প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৪৮ রুপিতে লেনদেন হয়েছিল, কিন্তু সে রেকর্ড মাত্র পাঁচ দিন টিকে ছিল। উল্লেখ্য, মারাঠিদের বসন্তকালীন উৎসব গুড়ি পাদওয়া উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল, যা আজকের লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে।

রুপির পতনের প্রধান কারণসমূহ

মুদ্রাবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বজায় থাকার পাশাপাশি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) অর্থ তুলে নেওয়া এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া—এই তিন কারণে রুপির ওপর চাপ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, তথা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ব্যবসায়ীরা আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় রুপির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৮০ মার্কিন ডলারে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা রুপির অবমূল্যায়নে ভূমিকা রাখছে।

ডলার সূচক ও তেলের দামের অবস্থা

ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তি তথা বিনিময় হার মাপা হয় যে ডলার সূচকে, সেটি শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪০-এ উন্নীত হয়েছে, যা ডলারের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করছে। এদিকে, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার তথা আগাম কেনাবেচায় ব্যারেলপ্রতি দাম ১ পয়েন্ট বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছে, যদিও লেনদেনের শুরুর দিকে প্রতি ব্যারেল ১১৯ ডলার অতিক্রম করেছিল। এই বৃদ্ধি ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, যার প্রতিফলন রুপির মানে দেখা যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ডলারের শক্তিশালী প্রবণতা ভারতীয় রুপির এই পতনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে, যা ভবিষ্যতে মুদ্রাবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।