মার্কিন নাগরিকদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে পারিবারিক ব্যয়
মার্কিন নাগরিকদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি

মার্কিন নাগরিকদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে পারিবারিক ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি তেলের মূল্য দেখা যাচ্ছে। ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখের এই দৃশ্য যেন দেশটির নাগরিকদের জন্য একটি উদ্বেগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটিতেও পড়তে শুরু করেছে, যা জ্বালানির দাম বাড়িয়ে গৃহস্থালি ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।

জরিপে উঠে এলো উদ্বেগজনক তথ্য

রয়টার্স ও ইপসোসের একটি নতুন জরিপ অনুসারে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে জ্বালানির খরচ সামনে আরও বাড়তে থাকবে। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে প্রায় ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেছেন যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাদের পারিবারিক ব্যয় ‘কিছুটা’ হলেও বেড়েছে। আর যাদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে, তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ বলেছেন যে তারা ‘প্রচণ্ডভাবে’ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি বাজার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গাড়ির জ্বালানির (গ্যাসোলিন) দাম গড়ে প্রায় এক ডলার বেড়েছে। ইরানও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, এবং গত বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ১১৯ ডলার, যেখানে যুদ্ধের আগে তা ৮০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নানা পদক্ষেপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন, যেমন উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন। এ বিষয়ে জানেন এমন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে আগামী মাসে গ্যাসের দাম আরও বাড়বে। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে পারে, তবে খুব কম মানুষই এই স্থল অভিযানকে সমর্থন করেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। গত এক বছর ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, এবং গত মাসেও তিনি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘স্বর্ণযুগে’ বসবাস করছে। কিন্তু যুদ্ধের আগে থেকেই খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এই দাবি সঠিক বলে মনে করেন।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিতে স্বীকার করেছেন যে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তার কিছুটা ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি দারুণ ছিল... আমাদের সবকিছুই দুর্দান্ত ছিল। কিন্তু ইরানে যা ঘটছিল, তা আমি দেখেছি এবং বলেছি, আমি এই অভিযান শুরু করতে চাই না, তবে আমাদের এটি করতে হবে।’

নির্বাচনী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারেন। জরিপে উত্তরদাতারা বলেছেন যে নভেম্বরের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ভোটকে প্রভাবিত করবে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।