ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। হরমুজ প্রণালির চলমান অস্থিরতা কেবল জ্বালানি তেলের দামই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়ে কৃষি উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সমান্তরালে আরও একটি গভীর সংকট ঘনীভূত হচ্ছে যা সরাসরি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত। আধুনিক কৃষিকাজে অত্যাধিক ব্যবহৃত সার 'ইউরিয়া'র মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সারের বিশাল একটি অংশ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে এই হরমুজ প্রণালি হয়েই রপ্তানি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সম্ভাব্য পরিণতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে এখানে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে সারের তীব্র সংকট দেখা দেবে। সারের এই ঘাটতি সরাসরি খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমিয়ে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত একটি বড় মাপের বৈশ্বিক খাদ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ফলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সারের এই অপ্রাপ্যতা সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনাপ্রবাহ এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, অন্যথা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হতে পারে।



