প্যারিসে চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনা সমাপ্ত, নতুন মতৈক্য অর্জিত
প্যারিসে চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনা শেষ

প্যারিসে চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনা সমাপ্ত, নতুন মতৈক্য অর্জিত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দুই দিন ব্যাপী চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়েছে। ১৫ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হ্য লি ফেং এবং মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অংশগ্রহণ করেন।

গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা

চীন-মার্কিন নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্য অনুসরণ করে, এই আলোচনায় শুল্ক ব্যবস্থাপনা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পুঁজি বিনিয়োগ, চলমান অর্জিত পরামর্শের মতৈক্য মেনে চলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক, গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময় নতুন কিছু মতৈক্যেও পৌঁছানো গেছে, যা দু'দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

চীনের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

চীনা প্রতিনিধি হ্য লি ফেং বলেন, গত বছর পাঁচ দফার আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনার পর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ধারাবাহিক পরামর্শ-সভায় ফলাফল অর্জিত হয়েছে। এটি দু'দেশের আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিশ্বের অর্থনীতিতে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতা যুগিয়েছে। তিনি মার্কিন পক্ষের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা অনুসারে সকল বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং চীনের ওপর ৩০১ ধারা-য় তদন্ত, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বাজার অনুমোদন বাধাসহ বিভিন্ন নেতিবাচক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

হ্য আরও বলেন, মার্কিন পক্ষের একতরফাভাবে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার আচরণের বিরোধিতা করে চীন এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক বাতিল করার জন্য তাগিদ দেয়। প্রয়োজন হলে নিজের বৈধ অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেবে চীন। যুক্তরাষ্ট্র দু'দেশের গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্য বাস্তবায়ন করবে বলে আশা করে বেইজিং, যাতে সহযোগিতার তালিকা বড় হবে, সমস্যার তালিকা ছোট হবে, এবং দ্বিপাক্ষিক আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্বাস্থ্যকর, স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

মার্কিন পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি

মার্কিন পক্ষ জানায়, স্থিতিশীল চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিশ্বের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্বের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক। দু'দেশের উচিত মতভেদ কমিয়ে দেওয়া, সমস্যার অবনতি ঠেকানো, এবং পরামর্শের মাধ্যমে বিদ্যমান মতভেদ সমাধান করা। এই আলোচনা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি