মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি: বাংলাদেশ ও ইউএনসিটিএডের সতর্কতা
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠকে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিটিএড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান সতর্ক করেছেন যে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। বৈঠকটি নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে উভয় পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আরও উত্তেজনা এড়াতে এবং জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইতিমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
গ্রিনস্প্যান ও ড. রহমান উল্লেখ করেন যে, দরিদ্রতম দেশগুলো বছরের পর বছর অর্জিত উন্নয়নের অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়ার শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
উচ্চপদস্থ প্রার্থীদের আলোচনা
রেবেকা গ্রিনস্প্যান, যিনি পূর্বে কোস্টা রিকার উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রার্থী। বৈঠকে তারা তাদের নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ইউএনসিটিএডের ভূমিকা ও গুরুত্ব
ইউএনসিটিএড একটি স্থায়ী আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বিষয়ে নীতি নির্ধারণ ও সহযোগিতা প্রচারে কাজ করে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইউএনসিটিএডের এই সতর্কতা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ইউএনসিটিএড যৌথভাবে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতির উপর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব হ্রাসে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



