এশিয়ার বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে, এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালে লেনদেন শুরুর দিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ মূল চালিকা শক্তি
এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কিনা, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে হামলার পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় এই নৌপথকে লক্ষ্যবস্তু করায় বাজারে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও সোমবার, ১৬ মার্চ তারিখে, বেশ কিছু জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালি অতিক্রম করার খবরে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আভাস দিয়েছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এশিয়ার পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা
তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও, এশিয়ার প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক এক লাফে ২.৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর চাঙ্গাভাব এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির পূর্বাভাস এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিক চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় মূলত প্রযুক্তি শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের উপর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
