মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে, যা আজ সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। হোয়াইট হাউস সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে, যা জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
গ্যাসের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি
আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম দুই সেন্ট বেড়েছে। এর ফলে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম তিন দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান, যা এখনও চলমান।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৭৪ সেন্ট বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। হ্যারিকেন ক্যাটরিনার আঘাতের পর গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের জন্য হুমকি
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠছে। যখন ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছিলেন, তখন প্রচারণায় গ্যাসের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো মসদনে বসার পর গ্যাসের দাম কমাতে সক্ষম হয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বরে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম তিন ডলার পর্যন্ত নেমেছিলো, যা ২০২১ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন ছিলো।
ডিজেলের দামেও চাপ
ইরান যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত হারে ডিজেলের দামও বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ জ্বালানির দাম এক দশমিক ২৪ ডলার বেড়ে প্রতি গ্যালনের দাম চার দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এ জ্বালানির প্রতি গ্যালনের দাম পাঁচ ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ট্রাক কোম্পানি ভাড়া বাড়িয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
বৈশ্বিক তেল বাজারের অবস্থা
আজ বৈশ্বিক বেঞ্চমার্কে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তেমন বাড়েনি। এদিন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ১০৩ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম এক শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ২০২২ সালের পর এক সপ্তাহের মধ্যে অপরিশোধিত ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম সবচেয়ে বেড়েছে গত সপ্তাহে।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রুদের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান। এর জেরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম বেড়েই চলছে। হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য মেয়াদ
তৃতীয় সপ্তাহে পড়া ইরান যুদ্ধ সহসায় শেষ হচ্ছে না বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের বেশিরভাগ তেল রফতানি হয়। তবে, এতে তেল স্থাপনার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করছে তেহরান। সংঘাতের দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
