ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক সংকটের আশঙ্কা
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহে সংকট

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক সংকটের আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার কোম্পানি নরওয়ের ইয়ারাআ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়, তবে এ বছর বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বনেতাদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।” এই সতর্কবার্তা দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

সারের গুরুত্ব ও যুদ্ধের প্রভাব

সভেইন তোরে হোলসেথার ব্যাখ্যা করেন, “সারের গুরুত্ব বিবেচনায়, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তবে এটি ফসলের উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি আঞ্চলিক সংঘাত হলেও এর বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে এবং এটি সরাসরি খাদ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।” ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সারের কাঁচামালের দাম হু হু করে বেড়েছে, কারণ সারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া অ্যামোনিয়ার প্রায় এক-চতুর্থাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে।

ইউরিয়ার দাম প্রতি টনে প্রায় ২১০ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ মার্কিন ডলারে, যেখানে ইরানের ওপর আক্রমণের আগের সপ্তাহে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ছিল মাত্র ৪৮৭ ডলার। এই দাম বৃদ্ধি সরাসরি কৃষি খাতকে প্রভাবিত করছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে মহাবিপর্যয়

হোলসেথার আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি হরমুজ প্রণালি এক বছর বন্ধ থাকে তা মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আমরা উদ্ভিদের পুষ্টি নিয়ে কথা বলছি, এবং যদি তারা পুষ্টি না পায় তবে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ফসলে সার দেওয়া না গেলে উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

ইয়ারাআ কোম্পানির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

১৯০৫ সালে নরওয়েতে প্রতিষ্ঠিত ইয়ারাআ কোম্পানি মূলত ইউরোপীয় খরা মোকাবেলার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ নাইট্রোজেনভিত্তিক সার উৎপাদক হিসেবে পরিচিত, যার প্ল্যান্ট নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।

সার শিল্প বর্তমানে ‘দুমুখী আঘাত’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলে জানান হোলসেথার। “উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কাঁচামালের সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এই সংকটকে তীব্র করেছে।” যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব হিসেবে কাতার ও ইরানে সার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, এমনকি এশিয়ার কিছু দেশ গ্যাস রেশনিং করতে নির্দেশ দিয়েছে।

দরিদ্র দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ

হোলসেথার বলেন, “ইউরোপ সবসময় দরিদ্র দেশগুলোর চেয়ে বেশি দাম দিতে পারবে, যা আফ্রিকা এবং তার বাইরের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।” এই অবস্থায়, দরিদ্র দেশগুলো খাদ্য সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে এবং দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্বনেতাদের উচিত জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা।