যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: আনু মুহাম্মদের তীব্র সমালোচনা ও বিচার দাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি করে দেশকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে। শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক" শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তিতে জড়িতদের বিচারের দাবি
আনু মুহাম্মদ বলেন, চুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি করার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের আগ্রহের কারণ কী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শুধু এই বাণিজ্য চুক্তিই নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তিও করতে চেয়েছিল, যা শ্রমিকদের প্রতিবাদের কারণে সম্ভব হয়নি। এ সময় সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তৎপর ছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চুক্তির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব
আনু মুহাম্মদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই চুক্তির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে এবং নতুন করে ভয়াবহ বেকারত্ব তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় কর বাড়ানো জরুরি হলেও চুক্তির ফলে কর কমতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আদালত ও বৈশ্বিক রাজনীতির প্রসঙ্গ
আদালতের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সরকারের ইচ্ছা যেন আদালত বুঝে ফেলে এবং সে অনুযায়ী রায় দেয়"। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনে ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন এবং জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার চেহারা ফুটে উঠছে বলে মন্তব্য করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান
আনু মুহাম্মদ সরকারকে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চুক্তিটিকে ভালো বললেও সরকারের উচিত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি কেবল বাগাড়ম্বর হয়ে থাকবে। তিনি জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান।
এই সেমিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজন করে এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. গোলাম রসূল। আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মীর্জা।
