যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশ-ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্কারোপের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশ-ভারতসহ কয়েক দেশের বিরুদ্ধে শুল্কারোপের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশ-ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্কারোপের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করেছে। এই তালিকায় এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের নামও উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সেকশন ৩০১-এর অধীনে তদন্ত ও সম্ভাব্য শুল্ক

বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর এই গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে। গ্রিয়ার আরও উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই এই বাণিজ্য তদন্ত শেষ করার আশা করছেন তিনি।

তদন্তের আওতায় অন্যান্য দেশ

তদন্তের আওতায় বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পূর্ববর্তী শুল্কনীতি ও চুক্তির অনিশ্চয়তা

গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে ট্রাম্প নির্ধারিত শুল্কের হার কিছুটা কমিয়ে আনাসহ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যদিও হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হচ্ছে না। তাই চুক্তির অধীনে যেসব বিষয়ে সম্মতি বা যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো মেনে চলবে বলেই আশা করে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই নতুন তদন্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।