যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের নাম
যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন একটি তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে বাংলাদেশ, চীন ও ভারতের নামও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছে। গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেকশন ৩০১-এর অধীনে তদন্ত ও সম্ভাব্য শুল্ক
বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে শুরু হওয়া এই তদন্তের ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর এই গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
গ্রিয়ার আরও যোগ করেছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই এই বাণিজ্য তদন্ত শেষ করার আশা করছেন তিনি। তদন্তের আওতায় বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ভিয়েতনাম
- থাইল্যান্ড
- মালয়েশিয়া
- কম্বোডিয়া
- সিঙ্গাপুর
- ইন্দোনেশিয়া
- সুইজারল্যান্ড
- নরওয়ে
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার নাম এই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, গত বছর এপ্রিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ। আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইনকে ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে, যা তিনি করতে পারেননি। রায়ের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং আদালতের ওই রায়কে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেন।
বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে ট্রাম্প নির্ধারিত শুল্কের হার কিছুটা কমিয়ে আনাসহ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হচ্ছে না, তাই চুক্তির অধীনে যেসব বিষয়ে সম্মতি বা যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো মেনে চলবে বলেই আশা করে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে, আদালতের ওই রায়ের পরপরই ট্রাম্প আবারো ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন এবং এটা ১৫ শতাংশে বাড়ানো হবে বলেও তিনি হুমকি দেন।
শেষ পর্যন্ত শুল্ক যত-ই ধার্য করা হোক, নতুন এই তদন্তের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার বাণিজ্য অংশীদারদের মূলত আরও জোরালোভাবে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এদিকে, এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আলোচনা মার্চের শেষ দিকে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।



