গ্যাস সংকটে কলকাতার হাজারো রেস্তোরাঁ বন্ধের আশঙ্কা, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ প্রভাব
কলকাতার রেস্তোরাঁ বন্ধের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট তীব্র

গ্যাস সংকটে কলকাতার হাজারো রেস্তোরাঁ বন্ধের আশঙ্কা

ভারতের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান মহানগর কলকাতায় এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে শহরের হাজারো রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার দাবি অনুযায়ী, যদি অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ, উদ্বেগ ছড়িয়েছে

সংগঠনের কর্তা সুদেশ পোদ্দার জানান, ১০ মার্চ মঙ্গলবার থেকে শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিছু পরিমাণে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু এখন একেবারেই সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় রেস্তোরাঁ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সুদেশ পোদ্দার বলেন, "ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ১০টি সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে মাত্র ৫টি করে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম ছিল।"

প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান সংকটের মুখে

হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী:

  • কলকাতায় সরাসরি সংগঠনের সদস্য রয়েছে প্রায় ১,৫০০টি প্রতিষ্ঠান।
  • প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও অনেক ছোট-বড় হোটেল ও খাবারের দোকান যুক্ত রয়েছে।
  • এই হিসেবে শহরে প্রায় পাঁচ হাজার রেস্তোরাঁ এই সংকটের প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেস্তোরাঁগুলিতে সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মতো গ্যাস সিলিন্ডারের স্টক থাকে। সুদেশ পোদ্দার সতর্ক করে বলেন, "যদি অবিলম্বে নতুন করে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু না হয়, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।"

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাবের আশঙ্কা

কলকাতার খাদ্য ব্যবসা শহরের অর্থনীতির একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। হাজার হাজার কর্মী এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। ফলে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেলে বহু কর্মীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে চলেছে। সুদেশ পোদ্দার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "যদি গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়া যায়, তাহলে রেস্তোরাঁগুলোতে রান্না করা সম্ভব হবে না, এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

এই সংকট কলকাতার খাদ্য শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।