ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শেষের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শেষের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে' ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ না করার বিষয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তেলের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে এসেছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান কেবল কিছু 'অশুভ শক্তিকে' দমনের জন্য এবং তার বিশ্বাস—এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তেলের দামে বড় পতন ও বর্তমান অবস্থা

ট্রাম্পের এই আশ্বাসের পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।

  • ব্রেন্ট ক্রুড: ১০% কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯২ ডলারে নেমেছে, যা সোমবার ছিল ১২০ ডলার।
  • নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুড: ১০.২% কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমান দাম কমলেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য বিশ্ব শক্তির ভূমিকা এই বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।