ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস
ট্রাম্পের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস

ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে' বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) চার বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর তেলের দাম দ্রুত নেমে আসে, যা বৈশ্বিক বাজারে গত ২৪ ঘণ্টা অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দামে চরম ওঠানামা

এর আগের দিন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো ঘটেছে। এই উল্লম্ফন এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের বিক্রির সূচনা করে। নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটও দিনের শুরুতে চাপের মুখে পড়ে, বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এরপর বাজার পরিস্থিতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখা ট্রাম্প কথা বলতে শুরু করেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ 'প্রায় পুরোপুরি শেষের পথে' রয়েছে। তার এই মন্তব্য সরাসরি তেলের দামকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

তেলের দামে আকস্মিক পতনের পরিসংখ্যান

সোমবার একসময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত কমে দিনের শেষে ৯৮.৯৬ ডলারে নেমে আসে। এই পতন নিম্নলিখিত দিকগুলো তুলে ধরে:

  • তেলের দামে প্রায় ২০ ডলারের বেশি হ্রাস
  • চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য থেকে দ্রুত অবনমন
  • বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সেক্টরে অস্থিরতা বৃদ্ধি

এই ঘটনাটি জ্বালানি বাজারে রাজনৈতিক বিবৃতির সরাসরি প্রভাবকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ইঙ্গিত যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা কমিয়ে তেলের দামকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে।

বৈশ্বিক বাজারের প্রতিক্রিয়া

তেলের দাম কমার সাথে সাথে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারগুলোও কিছুটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তবে বাজার এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, কারণ যুদ্ধের প্রকৃত সমাপ্তি এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বজায় রাখা উচিত।