অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি নেই
ভারত, চীন, রাশিয়া থেকে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি নেই অন্তর্বর্তী সরকারে

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি শূন্য

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে নতুন কোনো প্রকল্পের জন্য ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তবে এই সময়ে দেশ তিনটি পুরোনো ঋণচুক্তির আওতায় দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির প্রভাব

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন বিদেশি ঋণ সহায়তাকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গেও নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সীমিত ছিল। সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মন্তব্য করেন, ‘প্রথম থেকেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়। তাই এর প্রভাব ফেলেছে বিদেশি ঋণ প্রতিশ্রুতিতে।’

ভারতের এলওসিতে অর্থছাড়ের গতি কম

ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) আওতায় ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অর্থছাড় কাঙ্ক্ষিত হারে হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এলওসির মাধ্যমে মাত্র ২৯ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। ইআরডি সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের এক্সিম ব্যাংক ৩১ কোটি ১৪ লাখ ডলার ছাড় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম।

চীন ও রাশিয়ার অবদান

চীনের এক্সিম ব্যাংক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাড়ে ৬৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে, তবে নতুন প্রকল্পের জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যদিকে, রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ১২৫ কোটি ডলার ছাড় কমেছে। এই প্রকল্পের মোট খরচ ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাশিয়া ১১.৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।

অন্যান্য দাতাদের ভূমিকা

ভারত, চীন ও রাশিয়া নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি না দিলেও বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ বড় দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো তাদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সব মিলিয়ে ১৯৯ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এই সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঋণচুক্তিতে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। ইআরডির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের আমলে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ বেশি থাকে। রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত।’

সার্বিকভাবে, নতুন সরকারের আমলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করে ঋণের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে বিদেশি ঋণপ্রবাহে সতর্কতা ও রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষণীয় হয়েছে।