পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আওতায় থাকা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন জাতীয়তা আইন এক বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। দেশটির সরকার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বসবাসের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন আইনের মূল পরিবর্তন
নতুন এই বিধানের ফলে পর্তুগিজ পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের আবেদন করার প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘায়িত হবে, যা অনেক বিনিয়োগকারীকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। নতুন আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে পর্তুগিজ নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য এখন থেকে ৫ বছরের পরিবর্তে টানা ১০ বছর দেশটিতে বসবাস করতে হবে। শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীই নন, পর্তুগিজ ভাষাভাষী বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া
এই আমূল পরিবর্তনের ফলে যারা দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় পর্তুগালে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। পর্তুগাল সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় ইতোমধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি গোল্ডেন ভিসাধারী বিদেশি নাগরিক একত্রিত হয়ে সম্মিলিত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মার্কিন নাগরিকদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদী উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরাও শামিল হয়েছেন।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের সংগঠিত করছেন এবং খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক সমিতি বা সংগঠন নিবন্ধনের পরিকল্পনা করছেন যাতে সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি লড়াই চালানো যায়। আইনি জটিলতা ও সময়সীমা বৃদ্ধির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে দেশটিতে বসবাসের আবেদন বাতিল করতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। কিছু আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে মামলা লড়ার পরামর্শ দিলেও সরকার এখনো নতুন আইনের চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেনি। তবে বিধিমালা প্রকাশের আগেই বিনিয়োগকারীরা তাদের অধিকার রক্ষায় বড় ধরনের আইনি যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
সূত্র: গেট গোল্ডেন ভিসা



