বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রাধীন সরকারি জমিতে নির্মিত 'বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং' প্রকল্পে অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে যা পাওয়া গেছে
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা অননুমোদিত ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা পাচার করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মোহাম্মদ নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা দায়ের করে সিআইডি।
চুক্তি লঙ্ঘন
সিআইডি বিশেষ পুলিশ (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান জানান, মূল চুক্তি অনুযায়ী বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, যেখানে পরে পাঁচ তারকা হোটেল শেরাটন ঢাকা স্থাপিত হয়।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি এবং অভিযুক্তরা ডিএনসিসির প্রাপ্য অংশ হস্তান্তর না করেই একাধিকবার চুক্তি সংশোধনের জন্য নিজেদের প্রভাব খাটিয়েছে।
অননুমোদিত নির্মাণ
সিআইডির মতে, রাজউক ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি সনদ না নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, কাঠামোটি অনুমোদিত উচ্চতা সীমা অতিক্রম করেছে, যা বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থপাচারের পরিমাণ
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, অভিযুক্তরা অননুমোদিত ভবনে হোটেল পরিচালনার মাধ্যমে ১,১৫,৫৮,২৪,৭০৭ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছে এবং পরবর্তীতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তা পাচার করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তের সময় allegedly দখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা গেলে পাচারের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।



