ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমাতে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৬ মে) এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানান।
নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি
ইরাকের ক্ষমতাসীন জোট নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলি আল-জায়েদির নাম প্রস্তাব করে। তিনি দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে অভিনন্দন পান। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ‘অস্পষ্ট সীমারেখা’ দূর করা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জরুরি।
অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর থেকে চালু থাকা ব্যবস্থার অধীনে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে ইরাকের তেল আয়ের নগদ অর্থ লেনদেন করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এসব নগদ অর্থ সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পূর্ণ সহায়তা পুনরায় চালু করতে হলে ইরাককে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সরিয়ে দিতে হবে, সরকারি বাজেট থেকে তাদের অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বেতন প্রদানও বন্ধ করতে হবে। এসব পদক্ষেপই যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হামলার পরিসংখ্যান
তিনি আরও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ৬০০-র বেশি হামলা হয়েছে। তবে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর হামলা কিছুটা কমে এসেছে, যদিও ইরাকি কুর্দিস্তানে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ নয়, তবে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একটি স্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা—যেখানে বলা হবে যে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকি রাষ্ট্রের অংশ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ইরাকের কিছু রাষ্ট্রীয় অংশ এখনো এসব গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও কার্যকরী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে নুরি আল-মালিকির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের ওপর চাপ বাড়ায়। তার আগের শাসনামলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে ইরানের ঘনিষ্ঠতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, বিমানবন্দরের কূটনৈতিক ও লজিস্টিক স্থাপনা এবং বিদেশি কোম্পানির তেলক্ষেত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।



