চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় যমজ দুই ভাইয়ের একসঙ্গে বিয়ের আয়োজন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেল সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বিদেশে থাকা ভাই তৌহিদুল ইসলাম নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে প্রাণ হারান।
বিয়ের পরিকল্পনা ও ট্র্যাজেডি
তৌহিদুল ইসলামের যমজ ভাই জাহেদ হোসেনের বিয়ে পাকাপাকি হওয়ার পর পরিবার তৌহিদুলের জন্যও পাত্রী ঠিক করে রেখেছিল। দুজনের বিয়ে একসঙ্গে করার ইচ্ছা ছিল। তাই তৌহিদুলকে দেশে ফিরতে বলা হয়। তিনি ১৫ মে দেশে আসার জন্য উড়োজাহাজের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় দেয়াল ধসে তাঁর মৃত্যু হয়।
শেষ কথোপকথন
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহেদ হোসেন বলেন, 'একসঙ্গে দুই ভাই বিয়ে করব। কত স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্নই নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সর্বশেষ ভাইয়ের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন সে বলে—"বাঁচি আর মরি, এবার দেশে আসবই।" ভাই যে জীবিত আসবে না, কে জানত।'
পারিবারিক পটভূমি
তৌহিদুল ইসলাম পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাঁচুরিয়া হালিমা রহমান উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। এরপর এলাকায় মাছ-মুরগির খামার করতেন। খামারে লোকসান হওয়ায় জীবিকার তাগিদে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট সৌদি আরবে যান। সেখানে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন।
লাশ দেশে আনার চেষ্টা
তৌহিদুলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুরেও মায়ের সঙ্গে তৌহিদুলের কথা হয়েছে। এরপর বিকেলে সৌদি আরবে থাকা এক ফুফাতো ভাই মৃত্যুর খবর জানায়। পরিবার এখন লাশ দেশে আনার চেষ্টা করছে। হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, 'তৌহিদুলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তাঁর লাশ যাতে দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।'



