বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ছে, ৯ মাসে সাড়ে ৩৫২ কোটি ডলার খরচ
বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ছে, ৯ মাসে ৩৫২ কোটি ডলার

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণের সুদ ও আসলের কিস্তি দিতে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদাসল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ইআরডির প্রতিবেদন

আজ বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই-মার্চ মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ৯ মাসে আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৩৫২ কোটি ৫০ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ৩৮৯ কোটি ডলার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।

দেশি ঋণও বাড়ছে

বিদেশি ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি দেশি উৎস থেকে বিশেষ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেও ঋণ নেওয়া বেড়েছে। বাজেটঘাটতি মোকাবিলায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অবশ্য কিছু ঋণ শোধের ফলে এখন তা ৯৩ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। এর ফলে বিদেশি ঋণের পাশাপাশি দেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ পরিশোধের ধারা

কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার পার হতে পারে।

ঋণছাড় ও সুদ পরিশোধ

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বিদেশি ঋণের আসল সাড়ে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ও সুদ ১২৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৩৮ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

দাতাদের ঋণছাড়

গত ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণছাড় করেছে রাশিয়া। দেশটি দিয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এরপর আছে বিশ্বব্যাংক। এই সংস্থা দিয়েছে সাড়ে ৭৬ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫২ কোটি ডলার ও ২৪ ডলার। জাপান দিয়েছে ৩১ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেটসহায়তা হিসাবের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।