মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যে অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে জড়িত একগুঁয়ে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, একযোগে আটটি স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়। পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের বিস্তারিত
অভিযানে সেমেনিহে তিনটি, সেরি কেম্বাঙ্গানে দুটি এবং জেনজারোম, চেরাস ও সেরদাংয়ে একটি করে মোট আটটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, জনসাধারণের অভিযোগ এবং দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৫২ জন কর্মকর্তা অংশ নেন এবং মোট ৮৮ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে ৬৬ জন বিদেশি এবং ২২ জন স্থানীয় নাগরিক ছিলেন।
আটককৃতদের তথ্য
অভিযানের ফলাফলে ২৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী মোট ৪৫ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইন এবং ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৯(বি) ধারায় অপরাধ করার সন্দেহে তদন্ত চলছে।
নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
একই অভিযানে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে ৯টি ‘সাক্ষী সমন’ (ফর্ম-২৯) জারি করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছে। জাকারিয়া শাবান আরও জানান, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ বন্ধে এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের অভিযান আরও জোরদার করবে।
তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশিদের পাশাপাশি যেসব নিয়োগকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের আপস করা হবে না। আটক সকল বিদেশিকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।



