ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপকভাবে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে তেলের দাম বেড়েছে, যা সরাসরি বিভিন্ন দেশের মুদ্রায় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেল আমদানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ রেকর্ড সর্বনিম্নে
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, তেলের দাম বাড়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে দাম দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩১৫ রুপিয়াহতে, যা দেশটির মুদ্রার ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রায় প্রভাব
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল—যেমন ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তেলের দাম এসব দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, তবে মুদ্রার হারে ততটা প্রভাব ফেলেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’ জানিয়েছে, তারা ‘অবমূল্যায়িত’ রুপিয়াহকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিমালায় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মুদ্রার মান কমেছে ৩ শতাংশের বেশি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রুপিয়াহর মান ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। যা এ বছর এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পারফরম্যান্স ভারতের রুপির পরেই।
ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের মুদ্রাও দুর্বল
এদিকে ফিলিপাইনে বৃহস্পতিবার পেসোর মান ডলারের বিপরীতে ৬০.৫২৪-এ নেমে এসেছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। একইভাবে থাইল্যান্ডের মুদ্রা বাতও দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ৩২.৪৪-এ নেমেছে, যা ৮ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।



