মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত, ভারতে সার উৎপাদন মার্চে ২৪.৬% কমেছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় ভারতে সার উৎপাদন মার্চ মাসে প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশটির বিশাল কৃষি খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার উৎপাদনে মারাত্মক পতন
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সার উৎপাদন ২৪.৬ শতাংশ কমেছে। এই পতন সরাসরি প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতির সাথে যুক্ত, যা সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে কৃষিকাজে নিয়োজিত ৪৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ এই সংকটের মুখোমুখি, যা তাদের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব
ভারতের বিশাল কৃষি খাতের অন্যতম প্রাণশক্তি ইউরিয়া সার তৈরির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস অপরিহার্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সারের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এই বন্ধের ফলে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সার উৎপাদনের উপর।
খাদ্য উৎপাদনে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সারের এই সংকট ভারতের খাদ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির একক খামারগুলো সাধারণত ছোট এবং প্রায়ই কম উৎপাদনশীল হওয়ায় সারের অভাব পুরো কৃষি ব্যবস্থাকেই ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ঘাটতি ভারতের সার শিল্পকে এই নাজুক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যাতে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।



