চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।
আটকের বিবরণ
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জন তাদের ভিসা বা পাসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, অনেকেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় যে উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছিলেন, বাস্তবে তারা তার বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সরকারের কঠোর অবস্থান
জাকারিয়া শাবান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশিদের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পাসের শর্ত অমান্য করা, অনুমোদন ছাড়া কাজ করা এবং বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সমন্বয় ও বিশেষ উদ্যোগ
তিনি আরও জানান, অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে অভিযান ও তদারকিও আরও বিস্তৃত করা হবে। এ লক্ষ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ একটি বিশেষ ইনস্পেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট গঠন করেছে। পাশাপাশি বিদেশি অধ্যুষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান, আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা
মহাপরিচালক বলেন, বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন সূচক (কেপিআই) নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বিদেশিদের দেওয়া অভিবাসন সুবিধা যেন শুধুমাত্র অনুমোদিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন বিভাগ বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেও বিভাগটি কাজ করে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার অপব্যবহার, অবৈধ কর্মসংস্থান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ বাড়ায় মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।



