বাংলাদেশের পাবলিক ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে একটি স্বতন্ত্র ‘ডেডিকেটেড ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস’ গঠনের সুপারিশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একইসঙ্গে আগামী নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের আগেই দেশের রাজস্ব সক্ষমতা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণ
শনিবার প্রকাশিত ‘গুড গভর্নেন্স অ্যান্ড ম্যাক্রোইকোনমিক রিফর্মস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সমন্বিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাজস্ব সক্ষমতা, কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এডিবির মতে, বাংলাদেশের পাবলিক ঋণ বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া মেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল এখনও পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এবং এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ঘাটতি রয়েছে।
প্রস্তাবিত সমাধান
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এডিবি সব ঋণ ডেটাবেস একটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে একীভূত করার সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ডেডিকেটেড ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য দায়ী হবে।
অন্যান্য চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম রাজস্ব সংগ্রহ, ক্রমবর্ধমান বাহ্যিক ভারসাম্যহীনতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা সংকুচিত হওয়া। এডিবির মতে, এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য ও উন্নয়ন অর্থায়নে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারালে এই চাপ মোকাবেলা আরও কঠিন হতে পারে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে নীতি, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই দুর্বলতাগুলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক সেবা প্রদানের সক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
অগ্রগতির ক্ষেত্র
তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও স্বীকার করেছে এডিবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবিএএস++) চালু করার কারণে বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পাবলিক সেক্টর অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইপিএসএএস) গ্রহণের উদ্যোগ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।



