বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে এই পতন ঘটেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আরও বাড়াতে পারে—এমন পূর্বাভাসের পরই মূল্যবান এই ধাতুর দামে পতন দেখা গেছে।
স্পট গোল্ড ও ফিউচার দাম
শুক্রবার (২২ মে) গ্রিনিচ মান সময় ০৬:১১টা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের (আকরিক স্বর্ণ) দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫২২.০৬ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রাইসও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫২২.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলারের প্রভাব
বর্তমানে মার্কিন ডলারের সূচক গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পণ্য বাজারবিষয়ক আর্থিক প্রতিষ্ঠান 'মারেক্স'-এর বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, মূলত শক্তিশালী ডলারের কারণেই স্বর্ণের দাম নিচের দিকে নামছে। আর বিশ্বজুড়ে চলমান উচ্চ সুদহারের কারণেই ডলারের অবস্থান এমন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তেলের দাম
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় 'কিছু ভালো লক্ষণ' দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি এখনো আলোচনার মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদহার
তেলের এই চড়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ সুদহার বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতিজনিত লোকসান এড়ানোর নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হলেও, সুদহার বাড়লে ডিভিডেন্ড বা সুদবিহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
সিএমই গ্রুপের 'ফেডওয়াচ' টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াবে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে কেভিন ওয়ারশ-কে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে মার্কিন মুদ্রানীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।



