হরমুজ প্রণালি দিয়ে ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করেছে তেলবাহী সুপার ট্যাঙ্কার। বুধবার (২০ মে) অন্তত তিনটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে শিপিং ডাটা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি ও কেপলার।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তি
রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজগুলো প্রায় দুই মাস ধরে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষায় ছিল। এসব ট্যাঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। একই সময়ে আরও একটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজে প্রবেশ করেছে।
সংঘাতের প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অথচ বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ
রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ কুয়েত থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে। মার্চের শুরুতে জাহাজটি তেল বোঝাই করেছিল। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার উলসানে যাচ্ছে, যেখানে দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার এসকে এনার্জি অবস্থিত।
হংকংয়ের জাহাজে কাতারি ও ইরাকি তেল
বুধবার পার হওয়া হংকংয়ের পতাকাবাহী ভিএলসিসি ওশান লিলিতেও ১০ লাখ ব্যারেল করে কাতারি আল-শাহিন ও ইরাকি বসরা অপরিশোধিত তেল ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষে ও মার্চের শুরুর দিকে এ তেলগুলো লোড হয়েছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে দীর্ঘ সময় জাহাজ আটকে থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের নির্দেশিত বিশেষ ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল এখন আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে।
জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যান
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে শত শত জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখনও উপসাগরের ভেতরে আটকে আছেন। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করছে।



