থাইল্যান্ড ৯০টিরও বেশি দেশের পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত থাকার সময়সীমা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার লক্ষ্য বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ দমন করা। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির অর্থনীতির জন্য পর্যটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিদেশি আগমন এখনও কোভিড-পূর্ব উচ্চতায় পৌঁছায়নি।
সম্প্রতি বিদেশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার
সম্প্রতি বিদেশিদের একাধিক হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে মাদক অপরাধ, যৌন পাচার এবং অনুমতি ছাড়া হোটেল ও স্কুলের মতো ব্যবসা পরিচালনার ঘটনা। থাইল্যান্ডের বর্তমান পর্যটন প্রকল্পের অধীনে, ৯০টিরও বেশি দেশের ভ্রমণকারীরা—যার মধ্যে ইউরোপের ২৯ দেশের শেঙ্গেন এলাকা, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ রয়েছে—ভিসা ছাড়া ৬০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারতেন।
নতুন সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা
থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার ওই দেশগুলির ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসামুক্ত থাকার সময়সীমা কমানোর অনুমোদন দিয়েছে বলে পর্যটনমন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওয়ারাকুল ব্যাংককের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নতুন ভিসামুক্ত সময়সীমা দেশভিত্তিক নির্ধারণ করা হবে, যেখানে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিক ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন, এবং কেউ কেউ মাত্র ১৫ দিন পাবেন বলে সুরাসাক জানান।
পর্যটকরা ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে একবার ভিসা নবায়ন করতে পারবেন, সরকারি এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “৬০ দিন স্বয়ংক্রিয় ছিল, কিন্তু নবায়ন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে হবে এবং পর্যটকদের ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন তারা বেশি দিন থাকছেন।”
অপরাধ দমনের অংশ
বিদেশমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ভিসামুক্ত থাকার সময়সীমা কমানোর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের অংশ। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করছে না, বরং দেশে অপরাধ করার জন্য ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করছে।
পর্যটকরা “অর্থনীতি চাঙা করার মতো সুবিধা দেয়, কিন্তু বর্তমান প্রকল্প কিছু লোককে এর অপব্যবহার করতে দিয়েছে,” সরকারি মুখপাত্র রাচাদা ধনাদিরেক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন। ভিসামুক্ত সময়সীমা আগে ৩০ দিনে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পর্যটন ও অর্থনীতি বাড়ানোর সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তা ৬০ দিনে বাড়ানো হয়েছিল।
অর্থনীতিতে প্রভাব
পর্যটন থাইল্যান্ডের জিডিপির ১০% এরও বেশি, যদিও দর্শনার্থীর সংখ্যা মহামারি-পূর্ব স্তরের নিচে রয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি আগমন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩.৪% কমেছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের দর্শনার্থী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। সরকার জানিয়েছে, থাইল্যান্ড এ বছর প্রায় ৩৩.৫ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক প্রত্যাশা করছে, যা গত বছরের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন দর্শনার্থীর চেয়ে বেশি।



