ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব টালমাটাল হওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের উত্তরসূরি যিনিই হোন না কেন, তাকে ইসরায়েল ও গাজা ইস্যুতে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এমনকি ইসরায়েলের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গাজা ইস্যুতে ক্ষোভ
গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অনেক লেবার সমর্থকই স্টারমারের ওপর ক্ষুব্ধ। লেবার এমপি রিচার্ড বার্গন বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের যথাযথ প্রতিবাদ করতে স্টারমারের অস্বীকৃতি অসংখ্য ভোটারকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।’ আরেক এমপি কিম জনসন জানিয়েছেন, পরবর্তী নেতাকে অবশ্যই ইসরায়েল সরকারের চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা দেখাতে হবে, বিশেষ করে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিষয়ে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- অ্যান্ডি বার্নহাম: বর্তমানে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এক সময় ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন তিনি।
- এড মিলিব্যান্ড: ২০১০-১৫ মেয়াদে লেবার পার্টির নেতা ছিলেন। ইহুদি বংশোদ্ভূত এই নেতা ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। শোনা যায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে স্টারমারকে চাপ দিয়েছিলেন।
- অ্যাঞ্জেলা রেনার: বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনিও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির কট্টর সমর্থক।
- ওয়েস স্ট্রিটিং: সম্প্রতি পদত্যাগ করা এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বেশ রহস্য রয়েছে। তিনি এক সময় ইসরায়েলপন্থি লবি থেকে অনুদান পেলেও সম্প্রতি এক ফাঁস হওয়া বার্তায় ইসরায়েলকে ‘বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞার সমর্থন দিয়েছেন।
নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
স্টারমারের সময়কালে ব্রিটেন ইসরায়েলের ওপর আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও শত শত নজরদারি বিমান পাঠিয়ে গাজার তথ্য বিনিময় করেছে। তবে পরবর্তী নেতৃত্বে এলে ব্রিটিশ নীতিতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বীকৃতি এবং ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়া।
গ্রিন পার্টির উত্থান
লেবার পার্টির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রিন পার্টি। স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টি লেবার ভোটারদের একটি বড় অংশ কেড়ে নিয়েছে, যার অন্যতম কারণ গাজা ইস্যুতে তাদের স্পষ্ট অবস্থান। তাই নতুন নেতাকে শুধু দলের বামপন্থিদের সন্তুষ্ট করতেই নয়, বরং গ্রিন পার্টির উত্থান রুখতেও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিতে হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



