২০১৯ সালে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তুরস্ক। এর জেরে কানাডা তখন তুরস্কের অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কানাডার এই নিষেধাজ্ঞার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল তুর্কি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার ও টিএআই।
দুই প্রতিষ্ঠানই ড্রোন তৈরিতে কানাডিয়ান নির্মাতা ওয়েস্ক্যামের তৈরি ইলেকট্রো-অপটিক্যাল (ইও) ও ইনফ্রারেড (আইআর) ক্যামেরা ব্যবহার করতো। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা দেশীয় কোম্পানিসহ বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই জাতীয় ক্যামেরা উৎপাদন করে।
এই ঘটনার সাত বছর পর তুরস্কের ড্রোন ক্যামেরার বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দেশটি আঙ্কারার ড্রোন কিনতে চাচ্ছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কানাডার একজন কর্মকর্তা বলেন, “নজরদারির উদ্দেশ্যে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন সক্ষম ড্রোন কিনতে আগ্রহী কানাডা।”
আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ড্রোন নাও কেনা হতে পারে।” তবে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডার মনোভাবে পরিবর্তন স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয় নিয়ে কানাডার আঙ্কারার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে এক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কানাডার প্রতিরক্ষা ক্রয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ফুর জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে যেসব খাতে আঙ্কারার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত তার দেশ।
চলতি সপ্তাহে ডিফেন্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে স্টিফেন সম্ভাব্য সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গোলাবারুদ উৎপাদন, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা খাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা শুধু প্রস্তুত পণ্য কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, বরং যৌথ উন্নয়ন কর্মসূচিও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাতে কানাডা শূন্য থেকে শুরু না করে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে চায়, সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
আঙ্কারা সাধারণত এমন ধরনের ব্যবস্থার প্রতি উন্মুক্ত। অতীতে তুর্কি কোম্পানিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদনে একই ধরনের অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।
ভরসা কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর
ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র অটোয়ার মধ্যে ফাটল স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
কানাডার অবস্থান সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, “তুরস্কের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো। কারণ, তার কারণেই অটোয়ার মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে।” ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী এখন আর ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া নিরাপত্তা ছাতার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছেন না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “কানাডিয়ানরা আর মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তারা বৈচিত্র্য আনতে চায়।”
কানাডা ইতোমধ্যে ন্যাটোর দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এছাড়া দেশটি ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলে একটি ড্রোন উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে, যার জন্য তিন বছরে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে।



