২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অপরাজিত থাকলেও দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা উঠেছে। লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষ রয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনার আফ্রো-বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর কী ঘটেছে—এই প্রশ্নটি দেশটির ইতিহাসের গভীরে নিয়ে যায়।
ঔপনিবেশিক যুগে আফ্রিকান জনসংখ্যা
১৭৫০-এর দশকে ঔপনিবেশিক আমলে আর্জেন্টিনায় উল্লেখযোগ্য আফ্রিকান জনসংখ্যা ছিল। কিন্তু জোরপূর্বক আত্তীকরণ, যুদ্ধ এবং রোগমহামারীর মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব ও ইতিহাস পদ্ধতিগতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
বংশগত শিকড়ে আফ্রিকার উপস্থিতি
আর্জেন্টাইনরা নিজেদের শ্বেতাঙ্গ বলে দাবি করলেও গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু অনুমান অনুযায়ী তাদের বংশগত শিকড়ের নয় শতাংশ পর্যন্ত আফ্রিকা থেকে এসেছে।
যুদ্ধে আফ্রো-আর্জেন্টাইনদের বলিদান
আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ট্রিপল অ্যালায়েন্স যুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক আফ্রো-আর্জেন্টাইন (প্রধানত দাস) সামনের সারিতে মোতায়েন করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের কৃষ্ণাঙ্গ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
মহামারীতে প্রাণহানি
হলুদ জ্বর ও কলেরার মতো মহামারী আফ্রো-আর্জেন্টাইনদের ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে ১৮৭১ সালে বুয়েনস আইরেসের প্রাদুর্ভাবের সময়।
ইউরোপীয় অভিবাসন নীতি ও আত্তীকরণ
উনিশ শতকের আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ডোমিঙ্গো ফাউস্টিনো সারমিয়েন্টো ইউরোপ, বিশেষ করে স্পেন ও ইতালি থেকে অভিবাসনের আহ্বান জানান। প্রায় ৬০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে ইউরোপ থেকে আর্জেন্টিনায় অভিবাসিত হয়। এর ফলে জাতিগুলোর মধ্যে আন্তঃবিবাহ বৃদ্ধি পায়, যা আর্জেন্টাইনদের বিশ্বাস করায় যে তারা একটি সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় জাতিতে পরিণত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক মিথ
সেই সময়ের রাজনৈতিক বাগ্মিতায় কৃষ্ণাঙ্গ আর্জেন্টাইনদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়। এভাবে দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনা একটি সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় জাতি—এই সাংস্কৃতিক মিথ তৈরি হয়।
বর্তমান সময়ে বর্ণবাদ
ইউরোকেন্দ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব আজও আর্জেন্টিনার সমাজকে গ্রাস করে রেখেছে। 'নিগ্রো' (কৃষ্ণাঙ্গ) শব্দটি প্রায়শই মিশ্র ইউরোপীয় ও আদিবাসী বংশোদ্ভূত শ্রমজীবী মানুষদের (মেস্টিজো) অপমান করতে ব্যবহৃত হয়, যাদের কখনও কখনও 'ক্রিওলো'ও বলা হয়।



