ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা ৩, উদ্ধার কাজ চলছে
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: নিহত ৩, উদ্ধার কাজ চলছে

ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্প: কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংস

ভেনেজুয়েলায় বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ৭.২ মাত্রার, যা কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে আঘাত হানে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাস থেকে পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা: ‘আমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প’

বিবিসির স্প্যানিশ ভাষার সংবাদ বিভাগ মুন্দোর সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার ভূমিকম্পের সময় কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটা। মনে হচ্ছিল, পুরো ভবন মাথার ওপর ভেঙে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেখলাম, জানালাগুলো নড়ছে। ওই সময় সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমার মাথায় আর কিছুই আসেনি। দেয়ালটা মজবুত বলে মনে হয়েছিল।’ পরে তার প্রতিবেশীরা চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে এলে তিনিও ঘরের বাইরে আসেন।

কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী কোরো মার্তিনেজ (৫৬) বলেন, ভূমিকম্পের সময় ‘বিকট শব্দ’ হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ঘরে জিনিসপত্র, এমনকি ফ্রিজের ভেতরে থাকা জগগুলোও একের পর এক পড়ে গেল। আমি আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ

অবসরপ্রাপ্ত মারিয়া রোমেরো ১৯৬৭ সালে কারাকাসে হওয়া ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এবারেরটা ওই ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ ছিল।’ ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পে কারাকাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। উল্লেখ্য, ১৮১২ সালে কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রম

ভূমিকম্পের পর কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, সড়কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কারাকাসের কাছের লা গুয়াইরা এলাকায় বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয় ও রেলসেবা।

কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের চাকাও–এর মেয়র গুস্তাভো দুকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, এখানে দুটি স্থাপনা ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মেয়র বলেন, ‘আমরা যত বেশি সম্ভব মানুষকে উদ্ধার করতে সাধ্যমতো সবকিছু করব।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, হাসপাতালগুলোতে আহত ব্যক্তিরা ভিড় করছেন।

জরুরি অবস্থা ও সুনামি সতর্কতা

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও অল্প সময় পরই তা তুলে নেওয়া হয়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের অনেক ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সব দিয়েই আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। দমকল–পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

হতাহতের আশঙ্কা

ইউএসজিএস বলেছে, পরপর শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।